<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0" xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom" xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/">
  <channel>
    <language>en-US</language>
    <title>Ababhash Books Blog</title>
    <description>Ababhash Books Blog</description>
    <pubDate>Sun, 26 Apr 2026 16:31:30 +0000</pubDate>
    <generator>http://fishpig.co.uk/magento/wordpress-integration/?v=4.6.1.34</generator>
    <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/</link>
    <atom:link rel="self" type="application/atom+xml" href="https://www.ababhashbooks.com/blog/feed/"/>
    <item>
      <title>সাতগাঁর</title>
      <description><![CDATA[<pre class="wp-block-preformatted">শাকম্ভরী দেবী কাশীবাসী হবার প্রায় সাত মাস পরে সকালের স্নানে গিয়ে ওঁর কন্ঠস্বর শুনলেন সরোজা। তার কিছুদিন আগে থেকেই ভাঁড়ার ঘরে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছিল, কিন্তু পুরোনো কাঠের ইঁদুরকলটা কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সেদিন ভাটার সময় গলা জলে নেমে ডুব দিয়ে সরোজা অজস্র কথার কলকলানি খলবলানির ভেতর স্পষ্ট শুনলেন বৃদ্ধার কন্ঠস্বর। অন্তর্জলীযাত্রা থেকে বাড়ি ফিরে যেমন ক্ষীণ আর জড়ানো হয়ে গিয়েছিল তার থেকে ঢের স্পষ্ট, আগের মতো, সরাসরি সরোজাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন ---
</pre>



<p>'ইঁদুরকলটা তো বিশে ঠাকুরবাড়ি নিয়ে গেছিল নৈবিদ্যির নাড়ু ইঁদুরে ঠুকরোচ্ছে বলে, সেই চোতমাসে। ওটা ভোগের ঘরেই পড়ে আছে।'
</p>



<p>সেদিন থেকে শুরু হল। এবং যে&nbsp; সরোজা কলকাতা থেকে ফেরার পর শাকম্ভরী দেবী তৃতীয় কোনো মানুষ সামনে না থাকলে দরজার চৌকাঠ, তুলসীমঞ্চ, কুয়ো বা নিদেনপক্ষে দেয়ালের মধ্যস্থতা ছাড়া বাক্যালাপ করতেন না, সেই তিনি নিয়মিত জলে-জলে পাঁচশো মাইল দূর থেকে বার্তাবিনিময় করতে লাগলেন, খুঁটিনাটি সাংসারিক বিষয়ে উপদেশ দিতে লাগলেন, কারোর অসুখবিসুখ করলে পথ্যের নির্দেশ দিতে লাগলেন, নতুনবউয়ের পেটের ছানার জন্য কাঁথা বোনার কথা, বয়ামে গ্রীষ্মের আমসত্ত্ব কাসুন্দি ভাদ্রের কড়া রোদ খাওয়ানোর কথা মনে করিয়ে দিতে লাগলেন। ঠিক সেই আগের মতোই।&nbsp;
</p>



<p>পিসিশাশুড়ির কাছে কিছু জানতে চাওয়ার থাকলে, কিংবা জানানোর থাকলে, সরোজা ভরা জোয়ারে গিয়ে বলে আসতেন। বিকেলের ভাটায় কিংবা পরদিন সকালে ঠিক জবাব আসত, শাকম্ভরী দেবী কেদারঘাটে গঙ্গাস্নানে না গেলেও আসত। বহুকাল আগে তাঁর যৌবনে শ্বশুরালয় থেকে চলে আসার পর মাঝরাতে পাঁচিলের ওপার থেকে নিউরোসিফিলিসে আক্রান্ত মথুরের কাতর যৌনমিলনের আকুতি তাঁর কানে চুঁইয়ে আসত যেভাবে, সেভাবেই মুক্তিভবনে পানিপাঁড়ের টানা গঙ্গাজলের ঘড়ায় তিনি শুনতে পেতেন সরোজার গলা।
</p>



<p>সরোজা তাঁর স্নানসঙ্গী গঙ্গাজলদের শিখিয়ে দেবার পর এই নিয়ে কারোর কোনোরকম বিষ্ময় ছিল না। তাঁরাও কেউ কেউ এভাবে দূরবর্তিনী আত্মীয়ার সঙ্গে জলে-জলে বার্তালাপ করতেন। কোন বারে কী খেতে নেই, কোন রান্নায় কী ফোড়ন বিধেয়, কোন রোগের কোন টোটকা, বাড়ির বিবাহযোগ্যার রাজযোটক পাত্র কোথাকার কোন পালটি-ঘরে আছে, এইসব নানান বিষয়ে তাঁরা শলাপরামর্শ করতেন। তাঁদেরও কারোর শাশুড়ি খুড়শাশুড়ি পিসশাশুড়ি কাশীবাসী হয়েছিলেন। বাংলার আদিরাম প্রেসের পাঁজির সঙ্গে কাশীর পঞ্চাঙ্গ পাঁজির নিত্যকর্ম বিধিনিষেধ যেমন মিলিয়ে নেওয়া হতো, তেমনই সাতগাঁর নিত্যকার সাংসারিক বচসা --— যাকে বাড়ির পুরুষেরা বলে ‘হাঁড়িকুড়ি ঠোকাঠুকির ঝনঝনাৎকার’ --- চলত জলে-জলে জোয়ারভাটায়, কখনো এমনকি সপ্তমেও চড়ত। কিন্তু মুখোমুখি ঝগড়ায়&nbsp; ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে বউরা যেমন মেঝেয় পা ঠুকে মল বাজিয়ে সোচ্চারে বা নিরুচ্চারে শাশুড়ির মৃত্যুকামনা করত --— ‘মর বুড়ি! তুই মর! মরলে গা জুড়োয়!’— কাশীবাসীকে তো আর সেটা বলা চলে না। তার কারণ সেটা যে হয়ে উঠবে মোক্ষলাভের শুভেচ্ছা! তাই জলে ডুব দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলত --—
</p>



<p>‘বুড়ি তুই আরও অনেককাল বেঁচে থাক! ঝাড়েবংশে মরে হেজে মজে যাক, তুই শুধু গাছপাথরের মতো দেখে যা!’

</p>



<p>&nbsp;বইটি সংগ্রহ করতে <a href="https://www.ababhashbooks.com/santgaonr-haoatantira.html" data-type="URL" data-id="https://www.ababhashbooks.com/santgaonr-haoatantira.html">ক্লিক</a> করুন </p>



<p>&nbsp;</p>



<p>&nbsp;</p>



<p>&nbsp;</p><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2025/01/Satgaon-.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Sun, 19 Jan 2025 12:10:15 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B0/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/parimal-bhattacharya/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
    <item>
      <title>সংকলকের নিবেদন</title>
      <description><![CDATA[<pre class="wp-block-preformatted">...‘আজীবন ঘুরে বেড়াবার নেশা। কতবার কত জায়গায় ঘুরেছেন তার হিসেব নেই। কখনো পায়ে-হেঁটে, কখনো ট্রেনে বা মোটরে। কত মানুষের সঙ্গে দেখা — আলাপ-পরিচয়, কথাবার্তা। তারা কেউ সুখী কেউ দুঃখী। যে জায়গায় ভালো লাগত সেখানে বার বার যাওয়াই বুঝি 'পথের কবি'র ভ্রমণ-পিপাসার বৈশিষ্ট্য। প্রিয় জায়গা কখনো পুরোনো হতো না তাঁর কাছে।&nbsp;</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">     লেখক মানুষ। প্রতি বছর অগাস্ট-সেপ্টেম্বর দুটি মাস ভরে থাকে শারদীয় লেখালেখির ব্যস্ততায়। ১৯৪৩-এর ২ অগাস্টের দিনলিপিতে তার উল্লেখ আছে: ১৪ অগাস্ট রাতে শেষ হলো 'মুক্তি' নামের গল্পটি হাজরা যুগীর বউ-কে নিয়ে লেখা। ২১ অগাস্ট বারাকপুর থেকে কলকাতা হয়ে ঘাটশিলা যাচ্ছিলেন — ট্রেনের কামরায় ঠাসাঠাসি ভিড়, চ্যাঁচামেচি, ঝগড়াঝাঁটি, একটু দাঁড়াবার জায়গার জন্য ধাক্কাধাক্কি। সেই অকথ্য ভিড়ের মধ্যে এক বৃদ্ধ মুসলমান যাত্রী কাঁদছিলেন — তাঁর বাইশ বছরের জোয়ান ছেলে মরে গেছে। সেই খবর পেয়ে তিনি যাচ্ছেন। 'পথের কবি' শুনলেন সেই হতভাগ্য বৃদ্ধের কথা। তাঁর কল্পনার পাখনা সেই হৈহট্টগোলের মধ্যেও উড়াল দিল এক নতুন রাজ্যে — সেখানে-গাড়ির হৈহট্টগোল-চ্যাঁচামেচি-ঠ্যালাঠেলি কিছু নেই — সে এক অন্য রাজ্য। একে একে সবাই শুনলো বৃদ্ধের মর্মান্তিক দুঃখের কথা। যেন কোনো যাদুমন্ত্র — স্তব্ধ হয়ে গেল যাবতীয় কোলাহল — বৃদ্ধের একার দুঃখ ছড়িয়ে গেল সবার মধ্যে। 'পথের কবি'র কল্পনার যাদুতে 'ভিড়' নামে গল্পটি প্রকাশ পেল 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায়। গল্পে কোলাহল মুখর ট্রেনের কামরা লেখকের কলমের যাদুতে স্তব্ধবাক।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">     এরকম একটি নয়, আরও অনেক গল্পের রসদ সংগ্রহ করেছেন বিভূতিভূষণ। পথে যেতে যেতে যা পেয়েছেন 'খুদ কুঁড়ো' কাউকেই, কিছুকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেননি, সঞ্চয় করে রেখেছেন মনের নিভৃতে। হয়তো কয়েকদিন কি কয়েক মাস, এমনকি বছরের পর বছর পেরিয়ে যাবার পরেও মনের মণিকোঠায় যত্নে সঞ্চয় করে রাখা সেই স্মৃতির কুঁড়িটি পাপড়ি মেলে হেসে উঠল একটি পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুল হয়ে। একেই আমরা বলছি 'বিন্দু থেকে সিন্ধুতে'। একটি নয়, দুটি নয়, বিভূতি সাহিত্যের অনেক গল্পই এমনি করে কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফুটে ওঠার কাহিনি। আমরা এখানে আটটি নমুনা হাজির করেছি।’&nbsp;...</pre>



<p class="has-text-align-right">— অজয় গুপ্ত</p>



<p></p>



<p>বইটি সংগ্রহ করতে <a href="https://www.ababhashbooks.com/bindu-theke-sindhute-aati-sera-galper-janmakatha.html" data-type="URL" data-id="https://www.ababhashbooks.com/bindu-theke-sindhute-aati-sera-galper-janmakatha.html">ক্লিক</a> করুন। </p>



<p></p>



<p></p><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2025/01/Bindu-theke-sindhute.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Wed, 08 Jan 2025 16:30:30 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/ajoy-gupta/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
    <item>
      <title>প্রাসঙ্গিক</title>
      <description><![CDATA[<pre class="wp-block-preformatted">পরের এতগুলো পাতায় এত্ত এত্ত কথা লিখে নিজের বক্তব্য যদি বুঝিয়ে উঠতে না পারি, তাহলে বইয়ের শুরুতে বাড়তি কিছু শব্দ লিখে দিলে সেই কথাগুলো বুঝিয়ে ফেলা যাবে --- এমন অলীক প্রত্যাশা আমার নেই। অতএব, ভূমিকা হিসেবে যে অংশটুকু জুড়ছি, তার মধ্যে বইয়ের মুখ্য উপপাদ্য বিষয় জুড়ে দেওয়া হচ্ছে না। ভূমিকা বলতে এই বইয়ের হয়ে ওঠার আবহ, এটুকুই।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; গত শতকের শেষে আমার ডাক্তারি জীবনের শুরু (এমবিবিএস পাস ১৯৯৮ সালে, তারপর যথাক্রমে ইন্টার্নশিপ এবং হাউসস্টাফশিপ) --- দিশাহীন স্বভাবের গুণে প্রকৃত অর্থে যাকে ডাক্তারি বলে, সেই চেষ্টা শুরু করতে করতে প্রায় আমার আরও এক দশক দেরি হয়ে যায়। কিন্তু সে-প্রসঙ্গ এক্ষেত্রে অবান্তর। তবে সাফাই হিসেবে যে-কথা বিশেষ করে বলার, এই সময়কালের মধ্যে আমি কখনোই লেখালিখি করিনি (কৈশোরের শেষে কিছু কবিতা লেখা বাদে --- যেটুকু না করলে নিজের বাঙালিসত্তাকে অপমান করা হয়, সেটুকুই --- এবং অগ্রজপ্রতিম অনিন্দ্য রায় এবং তমোজিৎ গোস্বামী উসকানি না নিলে সেগুলো দিনের আলো, থুড়ি কলেজ ম্যাগাজিন ও কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিনের মুখ দেখতে পেত না)। নিজেকে নিবিষ্ট পাঠক হিসেবেই চিনতাম (এখনও তা-ই চিনি), হঠাৎ করে নিজেকে লেখক ভেবে বসার মতো বিভ্রান্তির কোনও কারণ তখনও ছিল না, আজও নেই। অথচ, নিজেকে লেখক না-ভাবার পরও, এদিক-ওদিক পত্রপত্রিকায় আমার বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছে, দু-চারজন সেসব লেখা পড়েছেন, এমনকী একাধিক বইও প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে - বর্তমান বইয়ের প্রসঙ্গে তার কারণ বা পটভূমিকা বিষয়ে সামান্য কিছু কথা বলে রাখা যাক।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ডাক্তারির চেষ্টা, মানে ক্যানসার-চিকিৎসক হওয়ার চেষ্টা করতে করতেই, ওই ২০১৬-র শেষ অথবা ২০১৭-র শুরু নাগাদ সরকারের ক্যানসার চিকিৎসা নীতির খামতি বা অসঙ্গতি বিষয়ে কিছু ভাবনা মাথায় আসে (সম্ভবত আরেকটু আগেই মাথায় এসেছিল --- তবে লেখাটা ওই সময়েই) --- অগ্রজপ্রতিম নীলাঞ্জন হাজরা সেসময় একটি সংবাদপত্রে কর্মরত ছিলেন, এটা-সেটা কথাপ্রসঙ্গে ভাবনাগুলোর কথা বলাতে তিনি গুছিয়ে লিখে ফেলতে বলেন, বিস্তর দোনামনা নিয়ে লেখা সেই নিবন্ধটিই আমার প্রথম লেখা। একটি খবরের কাগজে উত্তর-সম্পাদকীয়। এসব ক্ষেত্রে যা হয়, একবার শুরু করে দিলে নিজেকে সামলানো দুরূহ হয়ে দাঁড়ায় (আর আত্মসংযম কখনোই আমার স্ট্রং পয়েন্ট নয়) --- তদুপরি দেশের স্বাস্থ্য-চিকিৎসার যা সামগ্রিক পরিবেশ-পরিস্থিতি, তার সুবাদে বিষয়েরও কমতি পড়ে না --- এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ তথা পিঠ চাপড়ানিও জুটতে থাকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশিই --- অতএব, দেখতে দেখতে অনেক লেখা হয়ে গেল। খবরের কাগজে, পত্রপত্রিকায়, ওয়েবজিনে। সংখ্যাটা এতই বেশি, যে, ২০১৯ সাল নাগাদ চৈতালীদি, কবি চৈতালী চট্টোপাধ্যায়, বললেন, লেখাগুলো --- অন্তত নির্বাচিত কিছু লেখা --- সাজিয়ে একখানা বই করতে। এমনিতে লেখাপত্র গুছিয়ে রাখার ব্যাপারে আমার দক্ষতা লোক ডেকে নেমন্তন্ন করে দেখানোর মতো --- কিন্তু এক্ষেত্রে যেহেতু সব লেখা-ই ই-মেইল করে পাঠানো এবং অনেকগুলোই ফেসবুকের দেওয়ালে সাঁটানো, তাই অনেকগুলোই খুঁজে পাওয়া গেল। সেসব থেকে ঝেড়েঝুড়ে, কিয়দংশে পুনর্লিখনের শেষে, একটা পাণ্ডুলিপি দাঁড় করানো গেল। ২০২০ সালে ধানসিড়ি থেকে প্রকাশ পায় আমার সেই বই - কিনে আনা স্বাস্থ্য : <em>বাজার</em><em>-</em><em>পুঁজি</em><em>-</em><em>মুনাফা</em><em> </em><em>আর</em><em> </em><em>আপনি</em>।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">      কিনে আনা স্বাস্থ্য - আমাকে হতভম্ব করে সে বই বাজারে ভালোই চলল, এমনকী কেউ কেউ ভালোও বললেন (অন্তত কেউই বইটিকে সম্পূর্ণত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেন না) --- বছরদুয়েকের মধ্যেই বইটির প্রথম সংস্করণ যাকে বলে ‘নিঃশেষিত’ হয়ে গেল। এই প্রসঙ্গে ধানসিড়ি-র কর্ণধার --- শুভ বন্দ্যোপাধ্যায় --- তাঁকে ধন্যবাদ না জানানোটা অনুচিত হবে। বইটা ছাপার আদৌ অর্থ হয় কি না, সে নিয়ে আমার সৎ সংশয় অগ্রাহ্য করে তিনি অসম্ভব যত্ন নিয়ে বই ছেপেছিলেন --- এবং প্রকাশকের কাছ থেকে একজন অপরিচিত লেখক তার প্রথম বই নিয়ে যা যা আশা করতে পারে, তিনি তার চাইতে বেশিই করেছিলেন।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; প্রথম বইয়ের ক্ষেত্রে ‘আশাতিরিক্ত সাফল্য’ পেলেও বইটি নিয়ে আমার মনে বেশ কিছু খুঁতখুতানি ছিল। সন্তানের প্রতি অগাধ অপত্যস্নেহ থাকলেও তার দোষত্রুটি চোখে না পড়লে মুশকিল। বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার সময় লেখাগুলো নতুন করে লিখেছিলাম বটে, কিন্তু বইয়ের লেখাগুলোর মধ্যে নিজস্ব কোনো যোগসূত্র সেভাবে ছিল না --- মোটের উপর বইটা একটিই বই না হয়ে অনেকাংশে একটি প্রবন্ধ-সংকলন হয়ে দাঁড়িয়েছিল (তা খুব দোষের, এমন বলতে চাইছি না), যার বেশ কিছু প্রবন্ধ, বিষয়গত কারণে, আরও বিস্তারিত হওয়া উচিত ছিল। এবং কিছু প্রবন্ধ প্রকাশের বছরকয়েকের মধ্যে, সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক না হলেও, পাঠকের আগ্রহের বৃত্তে না থাকাই সম্ভব। তো <em>কিনে</em><em> </em><em>আনা</em><em> </em><em>স্বাস্থ্য</em>-কে বই হিসেবে বাতিল করতে চাইছি না --- কিন্তু সেই বইয়ের নতুন সংস্করণ করা মুশকিল, কেননা বদলাতে হলে এত কিছু বদলাতে হয়, যাতে বইটাই বদলে যায়। সুতরাং নতুন সংস্করণের দিকে আর এগোনো হয়নি --- <em>কিনে</em><em> </em><em>আনা</em><em> </em><em>স্বাস্থ্য</em><em> </em>বইয়ে হিসেবে, ভালোমন্দ যেমনই হোক, থাকতে চাইলে সেরকমই থাকুক।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ইতোমধ্যে, মাঝের এই বছরগুলোয়, স্বাস্থ্য-জনস্বাস্থ্য-চিকিৎসারদর্শন নিয়ে আমার ভাবনাচিন্তা --- আগের চটজলদি অর্বাচীনতার তুলনায় --- খানিকটা গভীর হতে পেরেছে। তদুপরি চিকিৎসক সংগঠন তথা চিকিৎসক-আন্দোলনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকার সুবাদে অনেককিছুই দেখার সুযোগ ঘটেছে, যার সবটাই প্রীতিকর নয় (এবং যার অনেক কিছু নিয়েই প্রকাশ্যে কথা বলাও মুশকিলের)। মাঝে, ২০২২ সালে, বাবা মারা গেল --- আমার জীবনদর্শন জীবনবোধ সবকিছু তৈরি হয়েছে বাবাকে সামনে রেখে --- সামনে থেকে এত নিবিড়ভাবে এমন ঘনিষ্ঠজনের মৃত্যু আগে দেখিনি --- আমার স্বাস্থ্য-চিকিৎসা বিষয়ক ভাবনার বদলের ক্ষেত্রে বাবার মৃত্যুর অভিঘাত অনস্বীকার্য। তো, ২০২০ সালে আগের বইটি প্রকাশিত হয়েছিল এবং ২০২৪-এ বর্তমান বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রকাশকের হাতে যাচ্ছে --- মাঝের এই চারটি বছর, আমার জীবনে ঘটনাবহুল। তাছাড়া মাঝে ঘটে গিয়েছে আস্ত একটি অতিমারি, সমাজজীবনে এবং প্রায় প্রত্যেকের ব্যক্তিজীবনে যার প্রভাব (চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে কথাটা তো আরও বেশি করে প্রযোজ্য) তো বলা-ই বাহুল্য। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, আধা-আনাড়ি হয়ে রাজা-উজির মারার জায়গা থেকে খানিকটা হলেও অভিজ্ঞ হতে পেরেছি, দু-চারটে কথা বলার ‘অওকাত’ অর্জন করতে পেরেছি (অন্তত তেমনটাই আমার বিশ্বাস)। লেখালিখিও, আমার চোখে, আগের তুলনায় পাঠযোগ্য হয়েছে। সেদিক থেকে ভাবনাচিন্তা করতে গিয়ে স্থির করলাম, আমার লেখা যখন সত্যিসত্যিই কিছু মানুষ পড়েন --- এমনকী পড়ে ভালোও বাসেন --- এবং ‘অবভাস'-এর প্রকাশকমশাই যখন বই প্রকাশের ব্যাপারে আগ্রহী --- তখন স্বাস্থ্য-চিকিৎসা বিষয়ে অন্য একটি বইয়ের কথা ভাবা যেতেই পারে। অতএব, এই সেই বই।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; এতক্ষণে নিশ্চয়ই এটুকু অনুমান করতে পেরেছেন, যে, স্বাস্থ্য-জনস্বাস্থ্য-চিকিৎসাদর্শন --- ইত্যাদি-বিষয়ক আমার ভাবনা নিয়ে এই বই। গত কয়েক বছরে আমার ভাবনাচিন্তা আগের তুলনায় পরিণতি পেয়েছে, সেকথা এখুনি বললাম --- কিন্তু তার অর্থ এমন নয়, যে পুরোনো ভাবনাগুলো সব বাতিল করে ফেলেছি। অতএব, পূর্বতন বইয়ের কিছু ছাপ এখানেও রইল --- চিকিৎসা ও দুর্নীতি শীর্ষক অধ্যায়টি, হোসেন আলি-কে নিয়ে অধ্যায়, বিজ্ঞান ও প্রশ্ন সংক্রান্ত অধ্যায়টি, এরকম কিছু কিছু জায়গায় <em>কিনে</em><em> </em><em>আনা</em><em> </em><em>স্বাস্থ্য</em>-র ছাপ রয়েছে। কিন্তু সিংহভাগ ক্ষেত্রেই থাকছে সম্পূর্ণ নতুন লেখা --- পুরোনো অংশ যেখানে রাখা হয়েছে, সেখানেও লেখাটি নতুন করে লেখা। অর্থাৎ এই বই কোনো ভাবেই নতুন বোতলে পুরোনো মদ চালানোর প্রয়াস নয়।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অবশ্য আরেকদিক থেকে দেখলে, যে বোতলেই ভরা যাক না কেন, মদটি পুরোনোই। অর্থাৎ, সব নাগরিকের সামর্থ্যের মধ্যে স্বাস্থ্য-চিকিৎসা তো যেকোনো সভ্য দেশের অবশ্যকর্তব্য হওয়া উচিত, নিদেনপক্ষে রাষ্ট্রের কাছে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচ্য হওয়া উচিত --- এই বিশ্বাস। অর্থাৎ, মানুষের অসুস্থতা, রোগীর চিকিৎসা --- স্বাস্থ্য, সব অর্থেই --- কোনো ব্যাবসার ক্ষেত্র হতে পারে না --- এমন ভাবনা। মানুষ মাত্রেই মরণশীল --- সুস্থ নীরোগ জীবন, অসুস্থতার মুহূর্তে হয়রানিহীন চিকিৎসা এবং শেষবেলায় শান্তিতে মরার সুযোগ --- এটুকুই কাম্য। অথচ প্রতি ধাপেই তার উলটোটা ঘটতে দেখি। সুস্থতা বলতে হাসপাতালে দৌড়ে হেলথ-চেকআপ --- অসুস্থ হলে দেউলিয়া হওয়ার আতঙ্ক --- আর মৃত্যু বলতেই কাচের ঘর, হাজারো যন্ত্র। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে --- আর দেশের সবচাইতে সম্ভাবনাময় শিল্প বলতে ‘হেলথ কেয়ার ইন্ডাস্ট্রি’। এসব নিয়ে যা-চলছে, যেমন-চলছের বিপরীত ভাবনাকে পুরোনো মদ ভাবতে চাইলে ভাবতেই পারেন। স্বাস্থ্য-ই বলুন বা চিকিৎসাব্যবস্থা --- সে নিয়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীপরিজন --- অনেকসময়ই যাঁরা সহযোগী সহমর্মীর পরিবর্তে যুযুধান দুই বিরুদ্ধপক্ষের ভূমিকায় --- দুই পক্ষেরই, পরস্পর-বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর ধ্যানধারণা রয়েছে। অনেক বছর ধরে, অনেকেই, সে নিয়ে বলে/লিখে আসছেন --- আমি তাঁদের পথের অনুসারী মাত্র। তো যেকথা বলছিলাম, সেদিক থেকে দেখলে ‘মদ’-টি পুরোনোই বটে। আর এত বছর ধরে এত বার করে একই কথা প্রায় একই সুরে বলে যাবার পরেও যদি কথাগুলো আপনার কানে না ঢোকে, তাহলে ‘পুরনো মদ’-টিই আরও একবার পরিবেশিত হলে অন্যায় হবে কি !</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ভালোবেসে যত্ন নিয়ে এই বই ছাপতে আগ্রহী হয়েছেন পার্থবাবু --- অবভাস-এর পার্থ চক্রবর্তী --- তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ রইলাম। আর বলব না বলব না করেও যাঁর কথা না-বলে থাকতে পারছি না --- পরিমল ভট্টাচার্য। এই বইয়ের পরিকল্পনা তথা ভাবনা নিয়ে প্রতি পদেই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি --- লেখার মাঝপথে তাঁকে পাণ্ডুলিপি পড়তে দিয়ে মতামত চেয়েছি, সম্পূর্ণ হওয়ার পরে আবার পড়িয়েছি (বারবার পড়তে বাধ্য করেছি বলা-ই ভালো) --- তিনি এতটুকু ধৈর্য হারাননি। বরং মতামত জানিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন। সবমিলিয়ে কৃতজ্ঞতার চাইতেও, এক্ষেত্রে, আমার বিস্ময়ই বেশি। অতএব, এই বইয়ের মুখবন্ধ লেখার পক্ষে তাঁর চাইতে উপযুক্ত ব্যক্তি কেউ হতে পারেন না --- এবং স্বাভাবিকভাবেই, এ বাবদে তাঁকে আলাদা করে ধন্যবাদ জানানো মুশকিল। তাছাড়া, এতদিনে, সম্পর্কটা আর কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ জানানোর পর্যায়েও নেই।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; যাক গে, বই শুরু হওয়ার আগেই অনেক কথা বলা হয়ে গেল। আর বাড়াচ্ছি না। বরং এই অপ্রয়োজনীয় গৌরচন্দ্রিকার শেষে এবং বইয়ের শুরুতে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো যাক এই বই যাঁরা ছাড়া সম্ভব হতো না, সেই সবাইকে। অর্থাৎ আমার মা, আমার স্ত্রী নিবেদিতা এবং আমার বছর-চোদ্দ-র ছেলে রঙ্গিতকে। এবং বাকি যাঁদের নাম আগেই করেছি, তাঁদের তো বটেই। এবং বিশেষ করে আপনাকে, যিনি বইটা পড়বেন, বা পড়ছেন, অন্তত পড়ার কথা ভাবছেন।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">     সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন। সবাই। 
                                                       বিষাণ বসু</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">

বইটি সংগ্রহ করতে <a href="https://www.ababhashbooks.com/chikitsa-bigyan-kandogang.html" data-type="URL" data-id="https://www.ababhashbooks.com/chikitsa-bigyan-kandogang.html">ক্লিক করুন</a>। </pre>



<p></p><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2025/01/Chikitsa.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Mon, 06 Jan 2025 15:52:10 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%95/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%95/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/bishan-basu/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
    <item>
      <title>মৃত্যুর জবানবন্দি</title>
      <description><![CDATA[<pre class="wp-block-preformatted">শোনো কৃষ্ণপ্রসন্ন, আমি মৃত্যু। যদিও এখন অনায়াসে মৃত্যু শব্দটা উচ্চারণ করছি, কিন্তু জেনে রেখো, এই শব্দটা দূরে থাক, ‘ মৃত্যু’ ব্যাপারটা যে আসলে কী? আদিম মানুষ তার বিন্দুবিসর্গও জানতো না। তাড়া মনে করত, এই যে তার প্রিয় মানুষটি হাঁটাচলা করছে না, কথা বলছে না, খাওয়া-দাওয়া করছে না---এটা নিতান্তই একটা সাময়িক ব্যাপার---হয়তো এর পিছনে বিশেষ কোনো কারণ&nbsp; আছে যেটা সে জানে না বা বুঝতে পারছে না। সেটা কেটে গেলেই সে আবার আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। তাই তাকে কবর দেবার সময় তার মাথার কাছে, হাতের কাছে, পায়ের কাছে তার নিত্যব্যবহার্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রেখে দিত, যাতে জেগে উঠে তার কোনোকিছুর অভাব না ঘটে, কোনো অসুবিধে না হয়। এই মনোভাবেরই চূড়ান্ত পরিণতি মিশরের পিরামিড।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; যাক সে কথা। যে-কথা তোমাকে বোঝাবার জন্য এত কথা বলতে হলো সেটা এবার বলে ফেলি---‘ মৃত্যু’ নেহাৎই একটি শব্দ---তোমাদের দেওয়া আমার নাম। আমাকে ওই নামে ডাকা হয়---এছাড়া তার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্রব নেই।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">বুঝলে কৃষ্ণপ্রসন্ন, আমার অনস্তিত্বের গণনাতীত আয়ুষ্কালে এই প্রথমবার নিজের হয়ে সাফাই গাইতে বসেছি। জানি, এই অভূতপূর্ব ব্যাপারটা তুমি খুব উপভোগ করছ। ভাবছ, অপ্রতিদ্বন্দ্বী অপরাজেয় শতাধিক সমার্থশব্দে মানুষ যাকে সভয়ে স্মরণ করে, সেই কালান্তক যমের দোসর&nbsp; ‘মৃত্যু’-কেও শেষ অবধি অত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য এই দীর্ঘ জবানবন্দি নথীবদ্ধ করতে হলো। না, কৃষ্ণপ্রসন্ন, অত উল্লসিত হবার কোনো কারণ নেই। স্বতঃপ্রণোদিত এই জবানবন্দি আমি না দিলেও পারতাম। দিচ্ছি কেবল একটাই কারণে : অনাদি অনন্ত কাল থেকে আমার সন্বন্ধে বিশ্বসংসারের মানুষজন যে একটা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে আসছে---যার একজন শরিক স্বয়ং তুমিও---সেই হাস্যকর ভ্রান্তি নিরসনের তাগিদেই আমার এই কষ্ট স্বীকার।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; সত্যি কথা বলতে কি, আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি তোমার একটা অদ্ভুত আচরণে। যমালয়ে বসে তুমি যখন&nbsp; ধর্মরাজকে তোমার খেরোর খাতায় লেখা কাহিনিগুলি পড়ে শোনাচ্ছিলে, তখন তোমার প্রতিটি প্রিয়জনের মৃত্যুর জন্যই তুমি যমরাজকে তথা আমাকে নির্বিবাদে দায়ী করে যাচ্ছিলে---সে- মৃত্যুর কারণ যা-ই হোক না কেন--- অসাবধানে জলে ডুবেই হোক কি আত্মহত্যা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা দুরারোগ্য ব্যাধি---বাঃ !</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ইস্কুলে তুমি ছিলে বাংলার মাস্টার। মৃত্যু যে অতিপ্রচলিত ও নির্দিষ্ট অর্থবহ একটি বিশেষ্যপদ এবং জীবনের বিপরীতার্থক শব্দ, তা কিন্তু তোমার অজানা থাকার কথাই নয়---তাকে যে শতাধিক নানা-আকার-প্রকারের সমার্থ শব্দে ভূষিত করে তোমরা নিজেরাই নিজেদের ঘিরে রেখে অহরহ ভীত সন্ত্রস্ত হচ্ছ আর দায় তো সম্পূর্ণই তোমাদের।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; একটা গাছ যখন&nbsp; শুকিয়ে যায়, তোমরা বলো ‘মরাগাছ’ বা ‘গাছটা মরে গেছে’। বাড়ির টেলিফোনটা বিকল হয়ে গেলেও তোমরা কত সহজেই বলো, ‘টেলিফোনটা ডেড’। পাহাড়ি রাস্তার শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়ালে---তার পরেই খাদ : বললে ‘ ডেড এণ্ড’ ! কোনো ঠিকানায় পাঠানো চিঠি---প্রাপক/প্রেরক কাউকেই না পেয়ে শেষ পর্যন্ত যখন ডাকঘরেই এসে জমা পড়ে যে-দপ্তরে তাকে বলো ‘ডেড লেটার অফিস’। কই, তখন তো আপাদমস্তকে শিহরন খেলে যায় না? কারণ ‘মৃত’ বা ‘মৃত্যু’ নিছক একটা শব্দমাত্র।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; জীবনের শর্তই হলো মৃত্যু--- তার আলাদা কোনো তাৎপর্য নেই। জীবনকে ধরে রাখার জন্য শরীরে কতকগুলো কলকব্জা থাকে। সেগুলো যতক্ষণ সচল রাখতে পারবে ততক্ষণ তোমার আয়ু---না পারলেই ‘মৃত্যু’। বয়সের কোনো হিসেব সেখানে অচল। জননী বসুন্ধরা জীবের জীবনধারণের জন্য অঢেল আলো-বাতাস-জল-মাটি দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন এই চরাচর তার স্নেহের আঁচলে। ছিল অক্সিজেন—নাকে-মুখে টেনে নিয়ে ইঞ্চি কয়েক নীচে চালান করে দাও হৃদযন্ত্র পর্যন্ত---সে সচল থাকবে, তুমিও বেঁচে থাকবে---যতকাল চাও ততকাল।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; যদি তা না পারো---সে দায় তোমার।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; তোমরা বলো, ‘জীবনপ্রদীপ’। সে প্রদীপ যেমন বাতাসে নেভে, তেমনি তেল নিঃশেষ হলেও নিভবে। জীবনও তেমনি। তুমি তাকে বাঁচিয়ে রাখো না দমকা বাতাস থেকে, তেল যুগিয়ে যাও অনন্তকাল---সে-ও জ্বলতে থাকবে অনির্বাণ। তোমরা তা পারো না। নিজেদের অক্ষমতার দায় আমার ওপর চাপিয়ে দাও।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; বললাম বটে অনন্তকাল কিন্তু অনন্তকাল কেউ বাঁচে না। মানুষ তো কোন ছাড়, এই যে বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে তোমরা এখন আছ তার আয়ুও একদিন ফুরোবে।…&nbsp; &nbsp;</pre>



<p></p>



<p>বইটি সংগ্রহ করতে<a href="https://www.ababhashbooks.com/krishnaprasannar-kheror-khata-ebong-mrityur-jabanbandi.html" data-type="URL" data-id="https://www.ababhashbooks.com/krishnaprasannar-kheror-khata-ebong-mrityur-jabanbandi.html"> ক্লিক করুন</a>  .. </p><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2023/12/Krishnaprasanna-1.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Mon, 25 Dec 2023 12:48:41 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/krishnaprasannar-kheror-khata-ebong-mrityur-jabanbandi-html/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/krishnaprasannar-kheror-khata-ebong-mrityur-jabanbandi-html/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/ajoy-gupta/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
    <item>
      <title>লাইনাস পলিং : মূল্যবোধের রসায়ন</title>
      <description><![CDATA[<p>‘লাইনাস পলিং (১৯০১-১৯৯৪)--– কেউ কেউ বাংলায় পাউলিং-ও বলেন--– পৃথিবীর সর্বকালের সেরা কুড়িজন বিজ্ঞানীর মধ্যে একজন বলে গণ্য। কীসের টানে পরমাণু আর আয়নরা অণু আর কেলাস গেঁথে গেঁথে তোলে সেই রহস্য সমাধান করে বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিলেন তিনি।&nbsp; ১৯৫৪-য় এজন্য তিনি রসায়নে নোবেল প্রাইজ পান, যদিও কাজটি তিনি করেছিলেন ১৯৩৯ সালে। নোবেল ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ‘রাসায়নিক বন্ধনশক্তির চরিত্র এবং জটিল পদার্থসমূহের গঠনে সেই শক্তির ভূমিকা নিয়ে গবেষণার জন্য’ তাঁকে ওই পুরস্কার দেওয়া হল। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ছাত্রদের কাছে নিজের জীবনদর্শন ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন : ‘নিজের মননশক্তি ছাড়া আর কোনো কিছুর ওপরে কখনো বিশ্বাস রেখো না ... সর্বদা নিজে মাথা খাটিয়ে ভাববে’।</p>



<pre class="wp-block-preformatted">    আগাগোড়া বস্তুবাদী বিজ্ঞানী পলিং মনের বস্তুবাদী ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করতেন। ফ্রয়েডীয় মনোবিকলন তত্ত্বে তাঁর আস্থা ছিল না। তিনি রাসায়নিক পদার্থ সহযোগে স্কিজোফ্রেনিয়া প্রমুখ কঠিন মনোরোগের বহিঃপ্রকাশ প্রশমিত করার কথা ভেবেছিলেন।&nbsp;</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">    পরে রসায়নের থেকেও মনপ্রাণ দিয়ে সামাজিক প্রতিবাদে সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পারমাণবিক অস্ত্রপরীক্ষা বন্ধ করার দাবিতে, পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্রর বিরোধিতায়, রোজেনবার্গদের ন্যায্য বিচারের দাবিতে, ভিয়েতনামে আমেরিকার হামলার প্রতিবাদে নিজের বৈজ্ঞানিক খ্যাতিকেও পণ রাখতে কসুর করেননি। খুব কম অ-কমিউনিস্ট বিজ্ঞানী সম্বন্ধেই একথা বলা যায়।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;    অতি সাধারণ এক পরিবার থেকে, বহু বাধার পাহাড় ঠেলে বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ মার্গে আরোহণ করেছিলেন তিনি। এখানে তাঁর প্রথম জীবনের সেই প্রশান্ত লড়াইয়ের কথা তাঁর নিজের কথায় পেশ করছি। ক্যালিফোর্নিয়ার প্যালো অ্যাল্টোয় লাইনাস পলিং ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন-এর উপদেষ্টা বারবারা মারিনাচ্চি, যিনি পলিংকে ব্যক্তিগতভাবে জানতেন, তাঁর সম্পাদিত <em>লাইনাস পলিং ইন হিজ ওন ওয়ার্ড্‌স</em> (টাচস্টোন, নিউ ইয়র্ক, ১৯৯৫) থেকে এই অংশটি অনূদিত।‘…
</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">বইটি সংগ্রহ করতে <a href="https://www.ababhashbooks.com/bigyan-itihas-o-manusher-mulyobodh.html" data-type="URL" data-id="https://www.ababhashbooks.com/bigyan-itihas-o-manusher-mulyobodh.html">ক্লিক করুন</a> ।</pre>



<p></p><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2023/10/Bigyan-Itihas.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Wed, 25 Oct 2023 11:38:00 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/bigyan-itihas-o-manusher-mulyobodh-html/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/bigyan-itihas-o-manusher-mulyobodh-html/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ashish-lahiri/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
    <item>
      <title>স্মৃতির গভীর ডাকে</title>
      <description><![CDATA[<h2 class="has-text-align-center"></h2>



<p>খুব প্রত্যক্ষ ও একনিষ্ঠভাবে, অর্থাৎ অন্য কোনো প্রসঙ্গ বা চিন্তার অবতারণা না করে মণীন্দ্র গুপ্ত বালকবেলার স্মৃতি অবলম্বনে যে কয়েকটি কবিতা লিখেছেন, সেগুলি হল <em>নীল পাথরের আকাশ-</em>এর ‘একখণ্ড জমি, একটি দুপুর ও আমার শৈশব’, <em>বাড়ির কপালে চাঁদ</em>-এর ‘লাল লাল মাদারের ফুল’, ‘ঝাউগাছে বাদুড়দের বাড়ি’ এবং সম্ভবত ‘দুঃখ বালক’। <em>অক্ষয় মালবেরি</em>-র পাঠকের কাছে এই জগৎ সুপরিচিত; তবু কবিতা বলেই স্মৃতি বিশিষ্ট আর-এক আদলও পায়, যখন একলা ছেলে ‘একখণ্ড জমি, একটি দুপুর ও আমার শৈশব’-এ দুপুর রৌদ্র সেজে বরিশালের নিঝুম গ্রামের বাঁশতলা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে দেখে, ভরন্ত দিন পাকা বেত ফল হয়ে নুয়ে পড়েছে। তারাবন, ভাঙা হাঁড়ি, নেউল, ক্রুদ্ধ গোসাপ, সরপুঁটি, বাঁশের বাকল সংবলিত ছেলেবেলার দুপুর থেকে সন্ধ্যা মণীন্দ্র গুপ্ত যেভাবে বর্ণনা করেন এই কবিতায়, তা থেকে অনুমান করা যায়, এই স্মৃতির জগৎ তাঁর জন্য পরিণত বয়সে ‘লুপ্ত এক রোমাঞ্চিত খেলাঘর’ হয়ে সঞ্জীবনীর মতো আছে (‘একখণ্ড জমি, একটি দুপুর ও আমার শৈশব’, <em>কবিতাসংগ্রহ</em>, পৃ. ২৫)। যাপিত অভিজ্ঞতার এই স্মৃতি তাঁর জন্য &nbsp;বহুদিন পরেও অনিঃশেষ পুষ্টি: ‘পাঁচশো বছর আগেকার নদীর বাঁকের গ্রামখানি যেন একটি ঘন ক্ষীর ভরা জামবাটি— তার কানায় লেগে আছি আমরা পিঁপড়ের মতন’ (<em>গদ্যসংগ্রহ</em> ২, পৃ. ২৪২)। তাই বলে কি স্মৃতিধৃত জগতের সঙ্গে বাস্তবিক বিচ্ছিন্নতার কষ্ট নাগরিক কবির জীবনে সম্পূর্ণ দূরীভূত হয় ? হয় না: ‘কতকাল হল শেয়ালদের দেখি না, গভীর রাত্রে ফেউয়ের ডাক শুনি না। আমার চোখের আড়ালে ফোঁটা ফোঁটা খেজুররস কলসিতে পড়ে’ (<em>গদ্যসংগ্রহ </em>২, পৃ. ২৪৬)।</p>



<p>&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ‘মানুষী স্মৃতিই মানুষ’ (<em>অক্ষয় মালবেরি</em>, প্রথম পর্ব, পৃ. ১১)— এই ছিল যে লেখকের কেন্দ্রীয় প্রত্যয়, তাঁর আত্মকথার পাঠক মাত্রেই স্বীকার করেন, এই লেখক স্মৃতিধর ছিলেন— বহুকাল আগের দেখাশোনার ভুবনকে তিনি বিস্ময়কর অনুপুঙ্খে ও তীব্রতায় পুনরুদ্ধার ও পুনর্নির্মাণ করতে পারতেন। বিশেষত, ঘোর শৈশবে, প্রায় ভূমিষ্ঠ হবার পর ‘প্রথম স্মৃতি’-র যে পরিসর তিনি অক্ষয় মালবেরি-র শুরুতেই উন্মুক্ত করেন, তা এক দূরগামী মানস ভ্রমণের খবর দিয়ে আশ্চর্য করে: জন্মের পর দিনের বেলায় কাঁথা-বালিশের প্যাকিং বাক্সের ভেতর শুয়ে তিনি বড়োদের শাড়িঘেরা ‘বিশাল পা’-গুলিকে হাঁটু অব্দি দেখতে পান, তখনও উঠতে শেখেননি, পায়ের জোড়াগুলি তাঁর বিছানার পাশ দিয়ে আসছে আর যাচ্ছে (<em>অক্ষয় মালবেরি</em>, প্রথম পর্ব, পৃ. ১১)। অক্ষয় মালবেরি লেখার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে মণীন্দ্র গুপ্ত বলেছেন, প্রথমে কিছু মনে পড়ে না, কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে ধরে চিন্তা করতে শুরু করলে প্রায় বিনা প্রয়াসেই ঘটনা, চরিত্র, আকৃতি, ইন্দ্রিয়ানুভব— সব মনে পড়তে থাকে: ‘...আপনি ভাবতে পারবেন না, কত সুদূরে পিছিয়ে যেতে পারেন’ (<em>গদ্যসংগ্রহ</em> ২, পৃ. ১৫২)। অবশ্য তিনি স্মৃতিকে ‘একেশ্বরী’-ও বলেন, কেননা ঝুমঝুমির শব্দ হয়ে বৃষ্টি একদিন যার কানে বাজত এবং যে অনুভব করত, কোনো টিনের ঘরে নয় বরং টিনের একটা ঝুমঝুমির ভেতরেই শুয়ে আছে, সে যেহেতু অনেক কাল আগের একটা পাঁচ বছরের বাচ্চা, তাই সেই শব্দ এখন এতদিন পরে শুনতে চাইলে সেই বাচ্চাটিকেও স্মৃতিপটে ফিরিয়ে আনতে হয়, নচেৎ নবতিপর মণীন্দ্র গুপ্তকে রুদ্ধ স্মৃতির কক্ষে নিষ্ফল করাঘাতই করতে হয় কেবল: ‘দেখুন, আমার স্মৃতির ছবি আমাকেই কী রকম অস্বীকার করছে, আমাকেই ঢুকতে দিচ্ছে না’ (<em>গদ্যসংগ্রহ</em> ২, পৃ. ৩০৩)। নিজস্ব সংবেদন ব্যতিরেকে অন্যান্য সূত্র থেকে উপাদান এসে জোটার ফলেও অবিকল পুনরুদ্ধারের বদলে পুনর্নির্মাণের প্রসঙ্গ জরুরি হয় বলে সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন মণীন্দ্র গুপ্ত : ‘হ্যাঁ।মানে, আমার যত দূর স্মৃতিটা যায়। আচ্ছা, এখন আমি নিজে, আমার মনে হয়, স্মৃতিটা তো গেছেই, কিন্তু, হয়তো আমি সমস্তটা পরে কখনো কিছুটা শুনেছি। সেটা আমি স্মৃতি বলে নিয়ে নিয়েছি’ (<em>নতুন কবিসম্মেলন</em>, পৃ.২৫৫)। প্রত্যক্ষ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যখন অভিজ্ঞতার স্মৃতি বা অভিজ্ঞতাজাত অনুভূতির স্মৃতিতে পরিণত হয়,&nbsp; সময়ান্তরের কারণে ও মনের রঙে রঞ্জিত হয়ে তারা প্রত্যক্ষতা হারিয়ে রূপান্তরিত হয়। এই অর্থে স্মৃতি প্রত্যক্ষ নয়, বরং ‘অলৌকিক’ বর্ণচোরা অভিজ্ঞতা (<em>গদ্যসংগ্রহ</em> ১, পৃ. ১৪)। যেহেতু ‘মানসক্রিয়াভূমি’ অর্থাৎ মন ও অভিজ্ঞতার সংশ্লেষের স্বরূপ এক-একজনের ক্ষেত্রে এক-একরকম, তার পরিণতি হিসেবে স্মৃতি হয়ে ওঠে অ-সামগ্রিক, অ-পূর্বনির্ধারিত, আপেক্ষিক ও তির্যক এক ব্যাপার (<em>গদ্যসংগ্রহ</em> ১, পৃ. ১৪)। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এক-এক ব্যক্তির মনের রঙে এক-একভাবে রাঙিয়ে ওঠে বলে প্রদত্ত পৃথিবীর বিপরীতে অর্থাৎ নিছক প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাসর্বস্ব জগতের বিপরীতে এই স্মৃতির জগৎকে মণীন্দ্র গুপ্ত বলেছেন ‘একার পৃথিবী, কোলাজ পৃথিবী’, যা বিশিষ্ট ও বিমিশ্র, যাতে খামখেয়ালিপনার ভূমিকা আছে, যা ‘জোড়াতালিতেই’ নিজের পরিচিতি পায় (<em>গদ্যসংগ্রহ</em>, ২, পৃ. ৩০৩)। স্মৃতি আরও এক কারণে জাদুকরি; সে আচম্বিতে বিস্মৃতির গহন থেকে এক-এক টুকরোকে উত্থিত করে। তখন যা বিস্মৃতি, তা মুহূর্তে স্মৃতি হয়। যে ছেলে জলজ্যান্ত তাকে না মনে পড়ে বিস্মৃতিপরায়ণ প্রৌঢ়ের মনে পড়ে এমন কাউকে, যে ছিলই না কোনোদিন, শুধু যে জন্মালে আদর করে যার একটা নাম রাখার কথা ছিল ! ফলে, ঘোর বিস্মৃতির কত স্তর পলির নীচ থেকে না-বাস্তবায়িত হওয়া একটা নাম সহসা উঠে এসে ‘দেখতে-পাওয়া’ এবং না-পাওয়া, ‘কাছে-থাকা’ এবং না-থাকার অন্তর্বর্তী অনিশ্চয়কে চিহ্নিত করে (‘শান্টু আর পিকলু’, <em>কবিতাসংগ্রহ</em>, পৃ. ২০০)।</p>



<p>&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; জীবনের শেষ লগ্নে স্মৃতি ও বিস্মৃতির মধ্যে কুয়াশাবৃত সম্পর্ক রচিত হয় মস্তিষ্কে— সেই সম্পর্ক দোলাচল, সংক্রমণ ও তৃতীয় বাস্তবের সম্পর্ক— দুইয়ের কে ঠিক কে ভুল, এরা একে অন্যের ভেতর কতটা ও কীভাবে সেঁধিয়ে আছে, দুয়ের সংশ্লেষের পারস্পরিকতায় কি উঠে আসছে নতুন মিশ্রিত কোনো পরিসর— এই সম্পর্ক ও তৎপ্রসূত বিভ্রম যেভাবে অভিজ্ঞতায় পান একজন অতীতমগ্ন বুড়োমানুষ, তার পটভূমিটুকু অর্থাৎ স্মৃতি ও বিস্মৃতির মুখোমুখি হওয়াটুকু মণীন্দ্র গুপ্ত ‘নিশ্চিহ্ন-দেশের প্রান্তে’ কবিতায় লিপিবদ্ধ করেছেন। স্মৃতিকে তিনি বলেছেন ‘জলের তলার ছবি’— যা উন্মনা করে, প্রলুব্ধ করে, কিন্তু সময়ের ব্যবধান ছবির কিনারকে ঝাপসা কিংবা কম্পমান করে রাখে। সেই অনির্ণয় চেনায় অতীত ও বর্তমানের সন্ধির সূক্ষ্ম ফাঁক। যা বর্তমান, যা এখন স্পষ্টভাবে নির্ণীত বলে মনে হয়, তাও যেহেতু একদিন অতীত হয়ে গিয়ে অনির্ণয়ের কবলে পড়বে, তাই অনির্ণীত অতীতকে আজ এই বর্তমানেও অস্বীকার করা কঠিন, যে আসে স্মৃতির সরণি বেয়ে। তদুপরি, যা অতীত তা কতটা পাথুরে প্রমাণ, কতটাই বা সৃষ্টিশীল মনের উপচার— এই সন্দেহও স্মৃতির ফ্রেমগুলির কিনারা আবছা করে রাখে জলের তলায়। লক্ষণীয়, স্মৃতির সারধর্ম হিসেবে এই অনির্ণয় বা বিভ্রমকে গণ্য করতে চান বলেই যে কবিতাগুলির কেন্দ্রীয় বিষয় স্মৃতি অথবা বিস্মৃতি, সেগুলিতে বার বার সেই অনির্ণয় বা বিভ্রমের দ্যোতনা দেবার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী কোনো স্পেসের একটা চিত্রকল্প, কম্পনশীলতা এবং ছায়ার প্রসঙ্গ আনেন মণীন্দ্র গুপ্ত: ‘মন আর স্মৃতি এখন দিগন্তে মরীচিকার মতো কাঁপে:/ছায়ার হাত ধরে ছায়া ঐ দৌড়চ্ছে’ (‘বিকেল হল’, <em>কবিতাসংগ্রহ</em>, পৃ. ২৭৭), ‘দিন আর রাতে ভাগ হয়ে আছে সময়,/জীবন আর মৃত্যুতে ভাগ হয়ে আছে স্থির আকাশ’ (‘শান্টু আর পিকলু’, <em>কবিতাসংগ্রহ</em>, পৃ. ২০০), ‘মধ্যিখানে কেঁপে কেঁপে উঠছে ঘড়ির কাঁটা’ (‘শান্টু আর পিকলু’, <em>কবিতাসংগ্রহ</em>, পৃ. ২০০), ‘বিশাল পর্দার পাশে মাত্র দুইজন’ (‘জটিল ফাল্গুন’, <em>কবিতাসংগ্রহ</em>, পৃ. ১০৫), ‘পাড়ার সানাই বকুলতলার দিক থেকে/ছায়া সঙ্গে করে আসে তোমার উঠোনে’ (‘জটিল ফাল্গুন’, <em>কবিতাসংগ্রহ</em>, পৃ. ১০৫), ‘স্মৃতির গভীর ডাকে ঝনঝন করে উঠল বন... পরক্ষণেই/তার তরল ছায়ার মতো শরীর তরঙ্গিত একটা ছোট্ট লাফে/পেরিয়ে গেল/নিরক্ষীয় গ্রীষ্মের এই রাত’ (‘বৃক! বৃক!’, <em>কবিতাসংগ্রহ</em>, পৃ. ৭৭), ‘চারদিকে তারাবন, তলে তার ঘন ছায়া দমকে দমকে/অন্ধকার হয়ে হয়ে গিয়েছে হারিয়ে’ (‘একখণ্ড জমি, একটি দুপুর ও আমার শৈশব’, <em>কবিতাসংগ্রহ,</em> পৃ. ২৫)। উল্লেখজনক, স্মৃতিকে মস্তিষ্কে ধৃত গণ্য করার যে সাধারণ পরম্পরা, তার বাইরে বেরিয়ে অন্তত একবার মণীন্দ্র গুপ্ত বডি মেমরি-র ইঙ্গিত দিয়েছেন, অর্থাৎ স্মৃতি রক্ষিত হতে পারে নানা শারীরস্থানেও এবং বহির্জগৎ থেকে আগত নির্দিষ্ট স্টিমুলাসের প্রতিক্রিয়ায় সেই স্মৃতিসংবলিত শারীরস্থানসমূহ থেকে নির্দিষ্ট ইমপালস জেগে উঠে যান্ত্রিক ও পুনরাবর্তনধর্মী এক-একরকম অভিব্যক্তি ও কর্মের শৃঙ্খলা রচিত হয়। তাই একজন এলোরা গুহার ভাস্কর সাড়ে তিনশো বছরের জন্ম-জন্মান্তর পার হয়ে এসেও টের পান: ‘সেই স্মৃতি রয়ে গেছে পেশীতে’ (‘অমিতাভ, আমি কি’, <em>কবিতাসংগ্রহ</em>, পৃ. ২৮২)।</p>



<p>বইটি সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন <a href="https://www.ababhashbooks.com/manindra-gupter-jagat.html">https://www.ababhashbooks.com/manindra-gupter-jagat.html</a></p><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2023/07/Manindra-Gupter-Jagat.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Sun, 16 Jul 2023 13:18:41 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-manindra-gupter-jagat-html/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-manindra-gupter-jagat-html/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/chirantan-sarkar/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
    <item>
      <title>শিকড়-গাথা</title>
      <description><![CDATA[<p>২ মে, শনিবার</p>



<p>রাত ১১.৪৫ মি</p>



<p>‘দীর্ঘ সময় ধরে আমার শরীরে নিশ্চুপে বাসা বেঁধে থাকা ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করে করে এখন আমার শরীর ক্লান্ত ক্লিষ্ট। এই প্রলম্বিত অসুস্থতার পর্ব আমাকে করে তুলেছে বিষণ্ণ। আজকাল শরীরের বিধ্বস্ততা মনের আকাশকেও আচ্ছন্ন করে রাখে। বেশিরভাগ সময়ই নিজের সাধ আর সাধ্যের মধ্যে চলতে থাকে দড়ি টানাটানি। মনের আবদার মানলে শরীর বেঁকে বসে, আর শরীরকে প্রশ্রয় দিলে মনের মুখ হয় তোলা হাঁড়ি। আমি শ্যাম রাধি না কূল রাখি বুঝতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ি! তার সঙ্গে রয়েছে সামগ্রিকভাবে পৃথিবী জুড়ে চলতে থাকা করোনা-অতিমারির নির্মমতা। নিজের রোগযন্ত্রণা ছাড়াও কাছের অনেক মানুষের আকস্মিক মৃত্যু একদিকে আমার ভেতরে ঘটিয়ে চলেছে অবিরাম রক্তক্ষরণ, আরেক দিকে আমার মনকে গ্রাস করেছে মৃত্যুভয়। এক একজন প্রিয় মানুষের বিদায় বার্তা এসে পৌছয় আর আমার মনের ভেতর মাটি ধসে পড়ে আর তৈরি হয় বড়ো বড়ো গহ্বর। শূন্যতার অতলে তলিয়ে যেতে থাকি আমি। আমার জীবনের বর্তমান-অতীত, শৈশব-কৈশোর থেকে এই পড়ন্ত বেলায় শিকড় চারিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম যে মাটিতে সেই মাটিতে টান লাগে; কত অনুষঙ্গ, কত মুহূর্ত সঙ্গে নিয়ে চলে যাচ্ছেন এই আত্মজনেরা আমাকে করে দিয়ে রিক্ত, শূন্য। ধস নামার পরে পাহাড়ের গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছের মতো মনে হয় আজকাল নিজেকে--- মাটি সরে গিয়ে যার শিকড়বাকড় বেরিয়ে পড়েছে, যার হারিয়ে যাচ্ছে আঁকড়ে থাকার মতো অবলম্বন। জীবনটা যেন আমার কাছে হয়ে পড়েছে মাংস-চামড়া খসে পড়া কঙ্কালের মতো; নিরাবরণ আর নিষ্করুণ। এই তো আমার ফুরোতে থাকা যাপন চিত্র!</p>



<p>&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; টের পাই, নিজের অসুস্থতা এবং অতিমারির করালছায়ায় আমার জীবনের শিরা-উপশিরাগুলো শুকিয়ে আসছে। এই শেষ বেলায় নতুন করে শিকড় ছড়ানোর মতো মাটি কোথায় পাব! এই সব ভেবে ভেবে রাতগুলো হয়ে উঠেছে দীর্ঘ আর নির্ঘুম। একদিকে বিছানায় অস্থির শরীর, আরেক দিকে বিভ্রান্ত মন। যেকোনো সময় আচমকা থেমে যেতে পারে আমার এই পথ চলা; এই ভাবনা ঘুণ পোকার মতো আমার মাথায় সুড়ঙ্গ তৈরি করে চলেছে; এ কি বিদায়ের প্রস্তুতি নাকি অমূলক আশঙ্কা! আমার এই জীবন পরিক্রমার শেষে থেকে যাবে কি কিছু আফশোস, কিছু মনস্তাপ? কিছু না পাওয়ার বেদনা আমার শেষ নিঃশ্বাসের সঙ্গে মিশে যাবে কি বায়ুমণ্ডলে? বলো মন, বলো? জানতে চাই নিজের কাছে।</p>



<p>&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; মন বলে ওঠে, না... কোনো খেদ, কোনো অপ্রাপ্তি নয়, শেষ মুহূর্তে সঙ্গে থাকবে শুধু অপূর্ণতার বোধ, অসম্পূর্ণ কাজের পিছুটান। তবু তা অপরূপ, অপার সৌন্দর্যময়! মানব জীবন অপরিপূর্ণ, তাই সে মহময়ী, মায়াময়ী, আকর্ষক।</p>



<p>&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; লিখতে বসলে এক রাশ আশঙ্কা আর উদ্বেগ মাথায় ভিড় করে আসে, লেখা এগোতে চায় না। জানি না, এই লেখা শেষ করে উঠতে পারব কি না! লিপিবদ্ধ করে যেতে পারব কি না এক অকিঞ্চিৎকর জীবনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রংবেরঙের কাচের টুকরোগুলো!</p>



<p>&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; এরই মধ্যে কিছুদিন হল হাতে পেয়েছি একটি প্রবন্ধের সংকলন। নিজের লেখা যখন থমকে যায়, তখন রোগভোগের এই বন্দিদশার অলস দুপুর, দীর্ঘ বিনিদ্র রাতের মন্থর ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বইটি হাতে নিয়ে বসি মাঝে মাঝে। একের পর এক পৃষ্ঠার সীমারেখা পেরিয়ে পাঠ এগিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করি শান্ত পুকুরের মতো ঝিম মেরে থাকা মনটা নিয়ে। চোখের সামনে বইয়ের পাতার কালো অক্ষরগুলো অনেক কিছু বলতে চায়, তার কিছু কিছু আমার মনের ভেতর পৌঁছয়, কিছু পৌঁছয় না। তবু বইটির অনুষঙ্গটুকুই এত ভালো লাগছে যে পড়া ছাড়তে পারি না। এই বইয়ের পাঠানুভব আমাকে আশ্রয় দিচ্ছে, বুকে আগলে রাখছে।</p>



<p>&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; বইটা পড়তে পড়তে হটাৎ এমন একটা মুহূর্ত এল যখন&nbsp; মনে হল আমার নিস্তরঙ্গ মন-পুকুরে একটা ঢিল এসে পড়েছে আর সঙ্গে সঙ্গে পুকুরের জলে বিলি কেটে ঢেউ উঠতে শুরু করল; পুকুরটায় এতদিন জীবনের যে ছবিটা প্রায় নিশ্চল, স্থির ভাবে ভেসে থাকত সেটায় কাঁপন লাগল, ছবিটা টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল। আসলে বইটির একটি পৃষ্ঠায় পৌঁছে থমকে গেছে আমার পাঠ, একটি বাক্য চোখে পড়তেই।</p>



<blockquote class="wp-block-quote"><p>হিরাইথ হল এক স্মৃতিমেদুর অনুভূতি, ঘরে ফেরার টান, এমন এক ঘরে ফেরার টান যে ঘরের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। *</p></blockquote>



<p>---বাক্যটিতে এমন কিছু লুকিয়ে আছে যা আমার মননে প্রবেশ করে অনুরণন জাগাল; আমি ভেতর থেকে কেঁপে উঠলাম, পায়ের নিচের মাটি সরে যাবার অনুভূতি হল। হিরাইথ বুকে নিয়ে জীবনের স্রোতে আমিও তো ভেসে চলেছি সেই কবে থেকে! যে ঘর বাস্তবে কোথাও নেই সেই ঘরে ফেরার টান আমাকে তাড়না করে কোথায় কোথায় না ছুটিয়ে নিয়ে গেছে! কিন্তু কোথাওই আমার স্ব-ভূমি, আমার আপন আঙিনা খুঁজে পাইনি আমি। যত বার খুঁজতে গেছি বুকভাঙা যন্ত্রণাই পেয়েছি।</p>



<p>&nbsp;&nbsp;&nbsp; &nbsp;‘হিরাইথ’ শীর্ষক যে প্রবন্ধ ওপরের বাক্যটি রয়েছে সেই প্রবন্ধটি পাঠ সম্পূর্ণ করতে বেশ বেগ পেতে হবে মনে হচ্ছে। বইপড়া আপাতত মুলতুবি রেখে ফিরে যেতে ছটফট করি আমার নিজের স্মৃতিমেদুরতার কাছে। দীর্ঘ অপেক্ষামাণ কোনো মীমাংসা-স্পৃহা যেন আমার ভেতরে কোথাও ঘাপটি মেরে ছিল; এখন সে আমাকে প্রবল বেগে নিজের দিকে টানতে শুরু করেছে। একে আমি এতদিন জোর করে উপেক্ষা করে এসেছি কিন্তু এবার বুঝি আর তার হাত থেকে আমার রেহাই নেই। যে ঘর, যে স্ব-ভূমির খোঁজে আমি এত বছর ধরে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়িয়েছি, যার অভাবে অন্তরের অন্তঃস্থলে এত বিপন্ন বোধ করেছি সেই ঘর বা দেশ যে বাস্তবে &nbsp;কোথাও নেই, এই মূলোৎপাটিত গৃহহীনতার বোধ যে আমার মনের অনুভূতিমাত্র এই উপলব্ধি মীমাংসার আকারে আমার নিজস্ব চেতনার জগতে এবার হয়ত পাকাপাকি জায়গা করে নিতে পারবে অবশেষে। ...’ &nbsp;&nbsp;</p>



<p>*ভট্টাচার্য, পরিমল। ‘ডোডোপাখিদের গান<em>: </em>পরিবেশ মানুষ ‘সভ্যতা’ এবং...’, জানুয়ারি ২০১৯, অবভাস, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯১ &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>বইটি সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন <a href="https://www.ababhashbooks.com/sikhar-ghatha-ek-anamnir-sheshbelar-dinlipi.html">https://www.ababhashbooks.com/sikhar-ghatha-ek-anamnir-sheshbelar-dinlipi.html</a></p><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2023/03/Shikor-Gatha_Poster.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Wed, 08 Mar 2023 13:03:03 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-sikhar-ghatha-ek-anamnir-sheshbelar-dinlipi-html/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-sikhar-ghatha-ek-anamnir-sheshbelar-dinlipi-html/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/angana-chattopadhyay/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
    <item>
      <title>প্রাককথন</title>
      <description><![CDATA[<p>...'আমাদের দেশে সত্যিকারের গোলকধাঁধা বা ভুলভুলাইয়া জনপ্রিয় হয় মুঘল আমলে। লখনউ-এর ভুলভুলাইয়াটি বিখ্যাত, এছাড়া বিভিন্ন প্রাসাদের বাগানে ঘন লতাবিতানের সাহায্যেও তৈরি করা হতো। &nbsp;এগুলি সবই রাজাবাদশার প্রমোদের জন্য।&nbsp; কিছু প্রাচীন তান্ত্রিক পুঁথিতে গোলকধাঁধার নকশা পাওয়া যায়, যেগুলি ধ্যানের সময় মনঃসংযোগে সাহায্য করত।&nbsp; এছাড়া পুরাণে মহাকাব্যে গোলকধাঁধার বর্ণনা রয়েছে।&nbsp; চক্রব্যূহ আদতে একটি গোলকধাঁধাই।&nbsp; রামায়ণের কোনো কোনো পাঠে রাবণের প্রাসাদের যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা গোলকধাঁধার মতো।&nbsp; সীতাকে সেখানে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।&nbsp; কিছুকাল আগে গোয়ার কাছে একটি গুহার দেয়ালে নব্যপ্রস্তর যুগের গোলকধাঁধার রেখাচিত্র পাওয়া গিয়েছে।&nbsp; তবে প্রাচীন ইজিপশীয় বা গ্রিক সভ্যতায় ল্যাবরিন্থসের মতো স্থাপত্য-নিদর্শন ভারতে কোথাও প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান করে পাওয়া যায়নি।&nbsp; সিন্ধুসভ্যতায় চাকতির আকারে পোড়ামাটির খেলনা পাওয়া যায়, তাতে গোলকধাঁধার নকশা রয়েছে।</p>



<pre class="wp-block-preformatted">     প্রকৃত গোলকধাঁধা নাকি এমন এক বিভ্রম সৃষ্টি করে যে তার ভেতরে হারিয়ে গিয়ে কাণ্ডজ্ঞানভ্রষ্ট মানুষ ভাবতে শুরু করে, সেটি যেন কেবলমাত্র তারই জন্য, তার বোধবুদ্ধির ফাঁকফোকরগুলো হিসেব করে বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।&nbsp; এইভাবে প্রতিটি মানুষ নিজের ভেতরে বয়ে নিয়ে চলে একটি গোলকধাঁধা, এবং জীবনের কোনো কোনো সঙ্গিন মুহূর্তে নিজেকে তার ভিতরে&nbsp; বন্দি হিসেবে দেখতে পায়। প্রত্যেক মানুষের&nbsp; আঙ্গুলের ছাপে রয়েছে একটি বিশিষ্ট স্বতন্ত্র গোলকধাঁধার নকশা।&nbsp; মানব মস্তিস্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স-এও তাই।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">     সেবারের সেই যাত্রায় তেমন কোনো ব্যক্তিগত গোলকধাঁধার মুখোমুখি হয়েছিলাম কি আমরা?</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">     দীর্ঘকাল পরে স্মৃতিচারণার সময় মানুষ নিজেকে একধরনের নৈর্ব্যক্তিকতায় দেখতে পায়।&nbsp; লেখাটি ফিরে পড়তে গিয়ে সেভাবেই আখ্যানের তিন যুবককে দেখি—শীত সকালের আলোয় বিধৌত মুখমণ্ডল, চারিপাশে কুয়াশার আলোছায়া।&nbsp; সে অনেককাল আগের কথা।&nbsp; এখন আমাদের মুখের ওপর থেকে সেই নবীন আলোক সরে গিয়েছে, মাথার ওপরে সূর্য ঢলছে পিছনে, ছায়াগুলো পায়ের পাতা ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছে সামনের দিকে।&nbsp; কুয়াশা উবে গিয়েছে কবেই।&nbsp; কাছে দূরে বোল্ডার আর টিলার ছায়া ভুমির ওপর ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে সূর্যঘড়ির মতো।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">     প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে এই হল অনুসন্ধানের সুবর্ণ সময়; এসময়ে উঁচুনিচু জমির মাঝে কোনো বিলুপ্ত বসতি বা সৌধের স্তূপের আদল চোখে ধরা দেয়।&nbsp; একটি আত্মকথার টুকরো, একটি প্রতিবেদনের লাইন, ডায়েরির ভাঁজে শুকনো পাতার শিরাউপশিরা, কিংবা পুরোনো দিনের সিপিয়া ফোটোগ্রাফে আচম্বিতে ফুটে&nbsp; ওঠে স্মৃতিখণ্ড।&nbsp; তার মধ্যে থেকে কখনো মিলেও যায় গোলকধাঁধার দিকচিহ্ন, চাবি।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">     স্মৃতি, যা একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পারস্পরিক : বদলাবদলি করে পরা পোশাকের মতো, একই গ্লাসে চুমুক একই সিগারেটে টানের মতো, একই নারীকে প্রেম, ঘুমের ভেতরে হাতবদল করে নেওয়া দুঃস্বপ্ন, জেগে উঠে পরে নেওয়া একে অপরের মুখের মতো স্মৃতি।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">     সেই স্মৃতির খননে উঠে আসে মৃৎপাত্র, জোয়াল, একটি কুয়োর অবশেষ, কালো উত্তল আয়না, বাঁশি ও কেরোসিন লন্ঠন (বিশ্বযুদ্ধকালীন), চষা ক্ষেতের চিহ্ন, সিলমোহর, নৌকার কঙ্কাল—মৃত নদীর গর্ভে কবরস্থ, কার্তুজের খোল, পোড়ামাটির খেলনা, শস্যদানা, একটি হাতঘরি (১টা বেজে ৫৩ মিনিট হয়ে থেমে আছে), মৈথুনচিত্র, রঙিন শার্সির কাচ, অচেনা যন্ত্রাংশ, একটি ঠিকানা-লেখা চিরকুট, এক কলঙ্কিত আলো, এক রাত্রির-ছোপ-লাগা ভোর…</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">     এই বিক্ষিপ্ত অসংবৃত প্রত্ন-উপাদান থেকে গেঁথে উঠল একটি সম্পূর্ণ নতুন রচনা।‘…

বইটি সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন <a href="https://www.ababhashbooks.com/dyanchinama-ekti-smritir-pratnasandhaan.html">https://www.ababhashbooks.com/dyanchinama-ekti-smritir-pratnasandhaan.html</a></pre>



<p></p><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2022/01/Dyanchinama.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Sat, 29 Jan 2022 15:21:13 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-dyanchinama-ekti-smritir-pratnasandhaan-html/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-dyanchinama-ekti-smritir-pratnasandhaan-html/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/parimal-bhattacharya/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
    <item>
      <title>মানুষের ধর্ম, মানুষের বিজ্ঞান</title>
      <description><![CDATA[<p>‘জার্মানির বিখ্যাত প্রোটেস্টান্ট ধর্মতাত্ত্বিক রুডলফ অটো(১৮৬৯-১৯৩৭)১৯৩০ সালে রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা শুনে চমৎকৃত হয়েছিলেন এই কারণে যে—</p>



<blockquote class="wp-block-quote"><p>আমাদের সামনে কোনো ধর্মতাত্ত্বিক প্রতর্ক উপস্থাপন করতে চাননি তিনি, কিংবা ভারতীয় ধর্মবিশ্বাসের তত্ত্বনির্যাস নিয়ে কোনো বক্তৃতাও দিতে চান নি। চেয়েছিলেন তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বোধকে মেলে ধরতে, আমাদের সেই বোধের অংশভাক করতে। সেই বোধ সম্পূর্ণই তাঁর নিজস্ব। ঐ বিশেষ ব্যক্তিসত্তা থেকে, তার বিশিষ্ট চরিত্র থেকে আলাদা করে নিয়ে, কখনোই তাকে সর্বজনীন করে তোলা যাবে না।</p></blockquote>



<p>১৯৩১ সালে রবীন্দ্রনাথের <em>The Religion of Man</em> প্রকাশিত হয়, যেটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত হিবার্ট লেকচারের গ্রন্থরূপ। বাংলা <em>মানুষের ধর্ম</em> বেরোয় এর দুবছর পরে।</p>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp; অটোর সাক্ষ্য খুব তাৎপর্যময় এই কারণে যে তিনি আবার এক বিশেষ অর্থে বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান-ইতিহাসবেত্তা জোসেফ নীডহ্যামের(১৯০০-১৯৯৫) আত্মিক গুরু। তাঁর বহুপঠিত বই <em>The Idea of the Holy</em> (মূল জার্মান, ১৯১৭ ; ইংরেজি অনুবাদ, ১৯২৩) নীডহ্যামকে অল্পবয়সে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। পরিণত বয়সে নীডহ্যাম এতদূর পর্যন্ত বলেছিলেন যে শুদ্ধ-পবিত্রের জন্য মানবাত্মার যে-আকূতি, একমাত্র অটোই তার যথার্থ ব্যাখ্যা দিতে পেরেছেন। &nbsp;&nbsp;</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp; নীডহ্যাম লিখছেন, ‘জীবন অনেক রূপের, অনেক রকমের স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতার’ সমাহার—সংমিশ্রণ নয়, সমাহার। সেইসব পরস্পরবিরোধী অভিজ্ঞতা মানুষের মধ্যে সহাবস্থান করে। সে সহাবস্থান তাঁর মতে মানবিক অস্তিত্বেরই একটা অঙ্গ। এইসব অভিজ্ঞতার মধ্যে কোনো একটিকে বা কয়েকটিকে অপরিহার্য বিবেচনা করে অন্যগুলিকে খাটো করা তাঁর মতে নিষ্প্রয়োজন। শিল্পসাহিত্য-বিজ্ঞান-দর্শন-ইতিহাস-নৈতিকতা-ধর্ম এসবই ব্রহ্মাণ্ড নামক এই ‘প্রকাণ্ড কাণ্ডে’ সাড়া দেওয়ার একেকটি পথ। সব পথ সবার জন্য সুগম নয়, অন্তত সমান সুগম নয়। এটা যে মানুষের অপূর্ণতা, সেকথা অবশ্য মানেন তিনি। স্পষ্টই জানান, মানুষের লক্ষ্য হল পূর্ণাঙ্গ আর পরিপূর্ণ হয়ে ওঠা, অর্থাৎ যে-ব্রহ্মাণ্ডে তার বসবাস তার প্রতি সাড়া দেওয়ার কোনো পথ থেকেই বঞ্চিত না হওয়া। &nbsp;&nbsp;</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp; সেই পূর্ণতা অর্জন, সেই অখণ্ড সংস্কৃতি গড়ে তোলাই মানুষের চরম লক্ষ্য।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">&nbsp;&nbsp;&nbsp; এই পূর্ণতালাভ, আমরা জানি, রবীন্দ্রনাথেরও অন্বিষ্ট। কিন্তু ঠিক একই ভাবে নয়। দেবেন্দ্রনাথের প্রভাবমুক্ত রবীন্দ্রনাথের ধর্মচেতনায় যে বিবর্তন ঘটেছিল, তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রাতিষ্ঠানিকতার বন্ধনমোচন ও ব্যক্তিমানুষের নৈতিক মুক্তি। সেই বিবর্তনের পথে বিজ্ঞান তাঁর কাছে এক বড়ো আশ্রয় হয়ে ওঠে। তার সঙ্গে অন্য একটা উপাদানও মেশে এবং ক্রমে প্রবল হয়ে ওঠে : সেটা হল সৃজনশীলতা। সৃজন বলতে তিনি সেই জিনিসই বুঝতেন যা ব্যক্তিমানুষের মনের অদম্য তাড়নায় উৎসারিত- মার্কসের কথায়, যা মানুষের ‘আত্মিক উৎপাদন’ (spiritual production)। সেই আত্মিক তাড়নাতেই তা হয়ে ওঠে শুদ্ধ, পবিত্র, মালিন্যমুক্ত।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">    সেই তাড়নার নামই মানুষের ধর্ম। সে-ধর্ম কিন্তু একান্তভাবে ব্যক্তিমানুষেরই পালনীয়। প্রতিষ্ঠান সে-ধর্ম পালনের অন্তরায় শুধু নয়, বৈরি। ব্যক্তিমানুষের সেই ধর্মের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের সেতুবন্ধনের কাজে নিজেকে নিয়োগ করেছিলেন উত্তরপর্বের রবীন্দ্রনাথ।…’ 

বইটি সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন <a href="https://www.ababhashbooks.com/rabindranath-manusher-dharma-manusher-bigyan.html">https://www.ababhashbooks.com/rabindranath-manusher-dharma-manusher-bigyan.html</a>
</pre><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2022/01/Rabindranath-Manusher-Dharma.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Thu, 20 Jan 2022 12:05:46 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-blog-https-www-ababhashbooks-com-rabindranath-manusher-dharma-manusher-bigyan-html/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-blog-https-www-ababhashbooks-com-rabindranath-manusher-dharma-manusher-bigyan-html/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ashish-lahiri/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
    <item>
      <title>গোড়ার কথা</title>
      <description><![CDATA[<p>‘২০০৭ সাল, আমরা তখন লোনাকে,&nbsp; কাঞ্চনজঙ্ঘার উত্তর-পশ্চিম উপত্যকায়। হাড়&nbsp; হিম&nbsp; করা&nbsp; ঠাণ্ডা&nbsp; হাওয়া। বরফ পড়ার একটা আওয়াজ হয়েই চলেছে। রান্নার জন্য ডেকচিতে জল গরম&nbsp; হচ্ছে। নর-এর&nbsp; স্যুপের প্যাকেট কেটে রেখেছি। হঠাৎই ঝুপ করে আওয়াজ হল। পিছনে তাকিয়ে দেখি&nbsp; এক রাশ বরফ দরজার মাথার ওপর থেকে ঝরে পড়েছে। লাক্‌পা শেরপা আইস-এক্সটা নিয়ে দরজার &nbsp;মুখটা পরিষ্কার করতে লাগল। লোনাক ৪৭৮৫মিটার উচ্চতায় মূল কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমবাহের ঠিক পাশে। এবারেও দুপুরে লোনাকে পৌঁছনোর&nbsp; পর থেকেই ২০০৭ সালের যাত্রার কথা ভীষণ মনে পড়ছিল-- এখান&nbsp; থেকেই ফিরে&nbsp; গিয়েছিলাম গতবার। দশ দশটা বছর চলে গিয়েছে কালের নিয়মে কিন্তু কোনো এক&nbsp; অদৃশ্য শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আবার একই পথে আসা। কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখবার স্বপ্ন মনে মনে জিইয়ে&nbsp; রেখেছিলাম। এবারও নিউ জলপাইগুড়ি, কাঁকরভিটা হয়ে বিরথামোড়, তারপর সওয়ারী গাড়ীতে তাপলেজং। চারজনের দল-- বেশ ভাল রকম তৈরি হয়ে এসেছি এইবার। গতবার লোনাক থেকে ফিরে&nbsp; গিয়ে একটা অসমাপ্ত গান বারবার বাজতে থাকত, ধাক্কা দিত ভীষণ আর মনে মনে শক্তি সঞ্চয় করতাম। মাঝে মাঝে বিষণ্ণ হয়ে পড়তাম-- আবার কি যাওয়া যাবে? ২০১৭ সালের প্রথম থেকেই ঠিক করে ফেলি&nbsp; ওপথে আবার যাব, তবে একটু অন্যরকম ভাবে যাব। এসব ভাবতে ভাবতে পন্ডিত শরৎচন্দ্র দাসের কথা&nbsp; মনে পড়ে গেল। আবারও পড়তে শুরু করলাম তাঁর লেখা বই-- <em>জার্নি টু লাসা অ্যান্ড সেন্ট্রাল টিবেট</em>, ১৯০২।</p>



<pre class="wp-block-preformatted">       উচ্চ তামুরকোশী-র উপত্যকার কথা, কাঞ্চনজঙ্ঘার চারপাশের গ্রামগুলোর কথা, তিব্বত  পৌঁছনো ও সেখানকার মানুষের জীবনচর্যার কথা পড়তে পড়তে রোমাঞ্চিত হয়ে  উঠলাম।  ঠিক করে ফেলি এবার উচ্চ তামুরকোশী উপত্যকার ওলাংচুঙ গোলা গ্রামটি দেখে তারপর  ইয়াংমা উপত্যকায় কিছুটা এগিয়ে  নাংগো-লা অতিক্রম করে চলে যাব মূল কাঞ্চনজঙ্ঘার উত্তর-পশ্চিম  উপত্যকায়। দিনের হিসাব করে নিলাম। ২৫/২৬ দিন তো লাগবেই। আমি, মৃত্যুঞ্জয়, পিনু ও শান্তনু-চারজনই  এক  বাক্যে   রাজি।</pre>



<pre class="wp-block-preformatted">       সিকিম-নেপাল সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শিখর কাঞ্চনজঙ্ঘা&nbsp; (৮৫৮৬মি)। জরিপের অফিসের খাতায় কাঞ্চনজঙ্ঘার পূর্ব নাম ছিল ‘পিক ৯’। ‘পিক ৯’ পর্বতচূড়ার নামকরণ ও উচ্চতা মাপা হয়। তিব্বতি ভাষায় কাঞ্চনজঙ্ঘা কথাটির অর্থ হল তুষারের পাঁচ ঐশ্বর্য ভাণ্ডার বা পঞ্চ তুষারের ভাণ্ডার। বাঙালীর পর্যটন প্রেমের একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে গিয়েছে স্বর্ণচূড়া&nbsp; কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছোটোবেলা থেকেই দার্জিলিং, টাইগার হিল, সান্দাকফু বা সিকিমের নানা জায়গা থেকে&nbsp; কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখে একটা আত্মীয়তা তৈরি হয়ে যায়, &nbsp;এক রোমান্সের জন্ম নেয়। কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গের&nbsp; তিনটি মূল শিবির স্থাপিত হয়। দুটি নেপালে আর একটি&nbsp; উত্তর&nbsp; সিকিমে। নেপালের দিকে, কাঞ্চনজঙ্ঘার&nbsp; উত্তর-পশ্চিম গাত্রের মূল শিবির তৈরি হয় পাঙপেমায়। ২০০৭ সালে যখন প্রথম এ পথে গিয়েছিলাম&nbsp; তখন কলকাতা—শিলিগুড়ি—কাঁকড়ভিটা--বিরথামোড়। তারপর বাস ধরে ফিদিম অবধি পৌঁছতে&nbsp; পেরেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত অনির্দিষ্টকালের জন্য বনধ-এ আটকে গিয়েছিলাম ফিদিমে। অবশেষে&nbsp; চারদিন পর একটা নুনের লড়িতে চেপে তাপলেজং যেতে হয়েছিল। এবারে যেতে যেতে সে-সব&nbsp; কথা&nbsp; মনে &nbsp;পড়ছিল। ‘</pre>



<p></p>



<p>বইটি সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন <a href="https://www.ababhashbooks.com/kanchenjunghar-anginaya-sharat-chandra-daser-pathe.html">https://www.ababhashbooks.com/kanchenjunghar-anginaya-sharat-chandra-daser-pathe.html</a></p><p><img src="https://www.ababhashbooks.com/wpblog/wp-content/uploads/2022/01/Kanchenjunga1.jpg" alt=""/></p>]]></description>
      <pubDate>Fri, 14 Jan 2022 13:26:23 +0000</pubDate>
      <link>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-kanchenjunghar-anginaya-sharat-chandra-daser-pathe-html/</link>
      <guid>https://www.ababhashbooks.com/blog/https-www-ababhashbooks-com-kanchenjunghar-anginaya-sharat-chandra-daser-pathe-html/</guid>
      <author>ababhash@gmail.com (ababhash@gmail.com)</author>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/ababhashbooks/]]></category>
      <category><![CDATA[https://www.ababhashbooks.com/blog/category/aditya-pal/]]></category>
      <dc:creator>ababhash@gmail.com</dc:creator>
    </item>
  </channel>
</rss>
